• India
  • Last Update 11.30 am
  • 29℃ Kolkata, India
news-details
Education

গ্রীক দেবরাজ জিউসের প্রেমিকাদের তালিকা জানা আছে?

ad

শীর্ষ টাইমস ডেস্ক: গ্রীক দেবতা জিউসের কথা সবারই জানা। গ্রিক পুরাণে তিনি ছিলেন আকাশ ও বজ্রের দেবতা। গ্রিকদের বিশ্বাসে তিনি দেবরাজ। কিন্তু জানলে অবাক হবেন জিউসের ছিল অসংখ্য প্রেয়সী। আসুন আজ আমরা জেনেনি তাদের কথা।

ডিমিটার: ডিমিটার ছিলেন শস্য এবং উর্বরতার দেবী এবং জিউসের বোন। ডিমিটারের সৌন্দর্য ছিল মন্ত্রমুগ্ধকর। আর এই সৌন্দর্যে মুগ্ধ হন জিউস। বোনকে প্রস্তাব দেন শারীরিক সম্পর্কের। ডিমিটার তাতে স্বভাবতই রাজি হন না। এরপর জিউস এক ফন্দি আঁটলেন। সাপ বেশে মিলিত হন মতান্তরে ধর্ষণ করেন ডিমিটারকে। এই মিলন থেকে জন্ম হয় পার্সেফোনের। মায়ের মতোই অপার্থিব সৌন্দর্যের অধিকারী ছিলেন তিনি। পার্সেফোন সম্পর্কে জ্যোতিষশাস্ত্রের টাইটান দেবতা অ্যাট্রিয়াস ২টি ভবিষ্যৎ বাণী করেন। প্রথম, তার সতীত্ব হঠাৎ করে গোপনে চুরি করা হবে এবং দ্বিতীয়, তার ভবিষ্যৎের স্বামী তাকে অপহরণ করবে। আবার ছলনায় জিউস পার্সেফোনকেও নিজের ছলনায় লিপ্ত করেন। তাদের মিলনে জন্ম হয় জাগ্রিয়াস।

সেমেলে: এর কিছুদিন পর দেবরাজ জিউস আবারো মর্ত্যের এক নারীর রূপে মুগ্ধ হন। এ নারী আর কেউ না রাজা ক্যাডমাসের কন্যা সেমেলে। অনেকে বলেন,সেমেলে জিউসের জন্য একটি ষাঁড় বলি দেওয়ায় সেমেলের প্রতি আকৃষ্ট হন জিউস। এবার দেবরাজ নিজেকে এক রূপবান যুবকে পরিণত করে সেমেলেকে তার প্রেমে পরতে বাধ্য করেন। কিন্তু জিউসের এরকম মেলামেশা জিউস পত্নী  হেরা একদম পছন্দ করতেন না। তাই তাদের মিলনে জন্মানো ডায়োনিসাসকে অনেকবার মারার চেষ্টাও করেছেন হেরা।

লেটো: লেটো ছিলেন একজন প্রসিদ্ধ টাইটান। জিউসকে ভালবেসেছিলেন তিনি। তাদের মিলনে লেটো গর্ভবতী হন। এতে হেরা স্বভাবতই ক্রুদ্ধ হন এবং লেটোকে অভিশাপ দেন,”সূর্যের আলো যতদূর পর্যন্ত প্রতিফলিত হয় ততদূর পর্যন্ত কোনো স্থানে সন্তান প্রসব করতে পারবি না তুই!” যখন লেটোর প্রসব বেদনা উঠল তখন প্রসবের জন্য কোনো জায়গা খুঁজে পেলেন না তিনি। তাঁর এ হাহাকারে জিউসের ও কষ্ট হতে লাগল। তিনি তাঁর ভাই এবং সমুদ্রদেবতা পোসাইডন এর কাছে সাহায্য চাইলেন। জিউসের অনুরোধে ঢেউ দিয়ে ঢেকে দিলেন ডেলোস দ্বীপকে। এ জলের নিচে সন্তান প্রসব করলেন লেটো। জমজ সন্তানের মধ্যে প্রথম জন্মাল আর্টেমিস যিনি হলেন চন্দ্রদেবী।

নেমোসিন: স্মৃতির টাইটান দেবীর নাম হল নেমোসিন। জিউস নেমোসিনের উপর আকৃষ্ট হন এবং একজন রাখালের বেশে তাঁকে প্রলুব্ধ করে সন্তান জন্ম দেন। এ সময় নেমোসিনের সাথে ৯ রাত কাটান বলে তাদের মিলনে ৯টি মিউজেস তৈরি হয়। এঁরা মূলত সৃষ্টিশীল মানুষের অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেন। মিউজেসদের প্রতীক,পোশাক ছিল আলাদা।

আলকেমিনি: আলকেমিনি ছিলেন রাজা ইলেক্ট্রিয়নের কন্যা। তিনি অনেক লম্বা এবং জ্ঞানী ও সুন্দরী ছিলেন। অনেকে তার চেহারা এবং কালো চোখকে আফ্রোদিতির সাথে তুলনা করত। তার অ্যাম্ফেট্রিয়নের সাথে বিয়ে হয়,এই শর্তে যে অ্যাম্ফিট্রিয়ন তার ভাইদের হত্যার প্রতিশোধ নেবে। অ্যাম্ফিট্রিয়ন একসময় থিবস ছেড়ে টাফিয়ান এবং টেলেবিয়ানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যান। এদিকে আলকেমিনির উপর দীর্ঘদিন ধরেই নজর ছিল জিউসের। তিনি একদিন অ্যাম্ফিট্রিয়নের ছদ্মবেশ নিয়ে মহলে আসেন এবং সবাইকে অভিযানে তার জয়ের ব্যাপারে জানান এবং আল্কেমিনির সাথে মিলিত হন। বলা হয় জিউস সূর্যদেবতা হেলিওস কে তিনদিন উঠতে মানা করেছিলেন। এর ফলে একরাত ৩রাতের সমান দীর্ঘ হয়েছিল এবং জিউস আল্কেমিনিকে সম্ভোগ শেষে অলিম্পাসে ফিরে যান। এরপরের দিন আসল অ্যাম্ফিট্রিয়ন ফিরে আসলে আলকেমিনি হতবাক হয়ে যান এবং সব ঘটনা স্বামীকে জানান। জিউস আল্কেমিনির এ মিলনে জন্ম হয় গ্রীক বীর হারকিউলিকস - এর।
হারকিউলিকস এর জন্মের আগেই জিউস অলিম্পাসে তার সম্পর্কে ভবিষ্যৎ বাণী করেন যে, এই বালক একদিন তার পাশে রাজত্ব করবে। এতে হেরা রেগে যান এবং হারকিউলিকসের শত্রুতে পরিণত হন।

 

ছবি: সংগৃহীত 

You can share this post!

Leave Comments