• India
  • Last Update 11.30 am
  • 29℃ Kolkata, India
news-details
Food

বাজারে এখন রকমফেরের চা। কোনটা খাবেন, কেন খাবেন, জানেন কি?

ad

শীর্ষ টাইমস ডেস্ক: চা আমাদের সকলেরই প্রিয়। পানীয় হিসেবে চা এতটাই জনপ্রিয় যে বিদেশিদেরও এই চা ছাড়া চলে না। আর শুধু প্রিয়ই নয় নিত্যসঙ্গীও বটে। কোনও আত্মীয়ের বাড়ি গেলে তারা সবার আগে চা অফার করে। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরও আমাদের মধ্যে অনেকেরই চা টা আবশ্যক। লাল চা - দুধ চা ছাড়াও আরও অনেক রকমের চা হয়। আমাদের প্রতিবেদনে আজ আমরা জানবো সেই প্রত্যেকটি রকমের চা ও তার উপকারিতা।

হোয়াইট টি: এটাকে সবচেয়ে খাঁটি চা বলা হয়। অন্য সব চায়ের থেকে সবচেয়ে কম প্রক্রিয়াজাতকরণ পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয় এতে। সাদা চায়ের রং একেবারে হালকা এবং গন্ধও অনেক কম। মূলত এই চায়ের প্রাকৃতিক গন্ধ, স্বাদ ও মিষ্টতা উপভোগ করা হয়। 

গ্রীন টি:  গ্রীন টির মধ্যকার অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট শরীরে বিভিন্ন জটিল রোগ, যেমন ব্লাডার, স্তন, ফুসফুস, পাকস্থলী ও কলোরেক্টাল ক্যানসারের কোষ বাড়ার ক্ষেত্রে বাধা দেয়। পাশাপাশি শরীরের চর্বি, আলঝেইমার ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতেও সাহায্য করে।

ব্ল্যাক টি: ব্ল্যাক টি বা কালো চায়ে বেশি ক্যাফেইন থাকে। ধূমপানের কারণে ফুসফুসের ক্ষতি হওয়া থেকে ব্ল্যাক টি রক্ষাকারীর ভূমিকা পালন করে। এ ছাড়া স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে এই চা।

ওলং টি: প্রাণীর ওপর করা এক গবেষণায় জানা গেছে, ওলং চায়ের মধ্যকার অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট শরীরের ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা 
কমায়।

ক্যালেন্ডুলা টি: ত্বকের সংক্রামক দূরীকরণের উপকরণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে ক্যালেন্ডুলা চায়ের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। ফ্লেভোনয়েড, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, ভিটামিন ও খনিজসমৃদ্ধ এ ফুলটি বিভিন্ন স্বাস্থ্যসংক্রান্ত ত্রুটি নিরাময় করে। ক্যালেন্ডুলায় রয়েছে বিটা ক্যারোটিন, যা গাজরে পাওয়া যায়। ফলে ভিটামিন এ-এর বেশ কিছু উপকারিতা এর মধ্যে রয়েছে। ঠান্ডা লাগলে ক্যালেন্ডুলার চা পান করতে পারেন। এটি ঋতুচক্র সুষ্ঠুভাবে নিয়ন্ত্রণ করে এবং এ সময়কালীন উপসর্গ দূর করতে সাহায্য করে। পেটব্যথা, পেটে প্রদাহ নির্মূলে ক্যালেন্ডুলা ফুলের চা অত্যন্ত উপকারী।

হিবিসকাস টি: এই হিবিসকাস চা জবা ফুলের পাপড়ি থেকে তৈরি করা হয়। এতে ক্যাফেইন থাকে না। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রেখে ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে। ওজন কমাতে উপকারী। এই হিবিসকাস চা বাড়িতেও সহজেই তৈরি করা যায়৷

ক্যামোমাইল টি: এই চা পান করলে প্রশান্তি অনুভব করবেন। কাজের চাপে ক্লান্ত শরীরের জন্য উত্তেজিত থেকে এবং স্বস্তি পেতে সাহায্য করে। ক্যামোমাইল চা এমন ভালো অনুভূতি দেয়। শুধু তাই নয়, এটি আপনাকে সঠিকভাবে ঘুমোতে সাহায্য করে। মানসিক চাপ ও উদ্বেগ দূর করে। মহিলাদের মাসিকের ব্যথা উপশম করে। বিকেলে ও ঘুমোনোর আগে এই চা পান করলে ভালো উপকার পাওয়া যায়। ক্যামোমাইলের চা মূলত ক্যামোমাইল ফুল থেকে তৈরি করা হয়।

কোনও কিছুই যেমন অতিরিক্ত ভালো না তেমন চা ও বেশি খেলে তা স্বাস্থের পক্ষে ক্ষতিকারক। থিওফিলাইন এক ধরনের রাসায়নিক। যা চায়ে থাকে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা তৈরি করে। অনেকেই মনে করেন, সকালে গরম গরম চা খেলে পেট পরিষ্কার হয়। যেখানে অতিরিক্ত চা খেলে কোষ্ঠকাঠিন্যও হতে পারে। ঘন ঘন চা খেলে ঘুমের সমস্যা হয়, উত্তেজনা বাড়ে, অস্থিরতা বাড়িয়ে দেয়, হৃদস্পন্দন বাড়িয়ে দেয়। অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের অবশ্যই চা এড়িয়ে চলা উচিত্। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় চা খেলে গর্ভপাতের সম্ভাবনা বেড়ে ‌যায়। গবেষকরা জানাচ্ছেন, যাঁরা অতিরিক্ত চা খেয়ে থাকেন, তাঁদের প্রস্টেট ক্যানসারের সম্ভাবনা বেশি থাকে।

 

 

ছবি: সংগৃহীত

You can share this post!

Leave Comments